রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

পঞ্চগড়ের বেগুন চাষীরা বিপাকে: অজ্ঞাত রোগে ফলন্ত গাছে মড়ক

দৈনিক জলকথা
  • প্রকাশের সময়ঃ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

 

সোলায়মান বাবু (পঞ্চগড়): এ বছর রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির সাথে দীর্ঘদিন টানা বর্ষণের ফলে সব্জি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এই সময়ে বাজারে তাই শাক সব্জি ও তরকারির তুলনামূলক আমদানি কম। যা পাওয়া যায় তার দামও আকাশ ছোঁয়া। সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে। খরচের ব্যাগ হাতে নিয়ে একদিকে ক্রেতার যেমন নাভিশ্বাস অন্য দিকে যিনি ফসল উৎপাদনের সাথে জড়িত সেই কৃষকেরও মাথায় হাত।

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বেশিরভাগই প্রায় উঁচু জমি। উঁচু জমিতে ধানের চাষ একটু কম হলেও ইদানিং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন শাক-সব্জি চাষ করে কিছুটা লাভবান হন কৃষক। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে অন্য সকল পেশাজীবী যখন ঘরে বসে দিন কাটিয়েছেন তখনও কৃষক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফসল উৎপাদনে ব্যাস্ত সময় অতিক্রম করেছেন।

দীর্ঘ মেয়াদি টানা বর্ষণে বারবার বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চারা তৈরি করতে পারেননি সিংহভাগ কৃষক। তাই বলে থেমে থাকেননি সোনার বাংলার কৃষক। নিজের কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছেন অন্যের জন্য খাবার জোগান দেওয়ার কাজে।

বেগুনের প্রতিটি চারা গাছ দুই টাকা করে কিনে নিয়ে নিজের জমিতে বা অন্যের কাছে লিজ নেওয়া জমিতে লাগিয়েছেন। কোনো কোনো কৃষক একাধিকবার বেগুনের চারা লাগিয়ে নানারকম যত্ন আত্তি করেও ফলন্ত গাছ টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। অজ্ঞাত রোগে ফলন্ত গাছ মরে যাচ্ছে। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সার কীটনাশকের দোকানে গিয়েও এই রোগের নাম বা কারণ জানতে পারছেন না তারা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা, হাড়িভাসা ও চাকলা হাট ইউনিয়ন, বোদা উপজেলার বেংহাড়ি বনগ্রাম, কাজলদিঘি কালিয়াগঞ্জ, বড়শশী, মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

অনেক শ্রম ও টাকা খরচ করে শাক সব্জি উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত মাঠ থেকে কৃষকরা বেগুন বিক্রি করছেন ১৩শ থেকে ১৬শ টাকা মণ। দাম কিছুটা ভালো থাকায় কৃষকের আনন্দ থাকলেও অন্য দিকে ফলন্ত গাছের মড়কে কৃষকের চোখে মুখে হতাশার হাতছানি।

অনেক কর্মঠ যুবকের নিজের জমি না থাকায় অন্যের ৩৩শতক/ এক বিঘা জমি বছরে ৮-১০হাজার টাকায় লিজ নিয়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে থাকেন। এমন মড়ক দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদনের পিছনে ব্যয় করা খরচ উঠিয়ে আর্থিক লাভবান হওয়া কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন কাজলদিঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকজন যুবক হুমায়ুন, আলম, খালেক, বীরেন ও অঘুনু। তারা বলেন নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমি লিজ বা বন্ধক নিয়ে আমরা চাষাবাদ করি। সার কীটনাশকের দোকান থেকে উচ্চ মূল্যে নানারকম ঔষধ নিয়ে সেচ সার দিয়ে অনেক কষ্টের ফসলও রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে যদি কৃষি বিশেষজ্ঞ বা সরকারি/বেসরকারি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন তাহলে হয়তো পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারলে কৃষক লাভবান হবে এবং দেশও এগিয়ে যাবে কাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
কারিগরি সহযোগিতায়: আরএসকে হোস্ট
01779911004