মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা(সাবেক এমপি) জলঢাকার ইতিহাসে একটি মহীরুহের নাম

প্রভাষক অবিনাশ রায়,লেখক ও সমাজকর্মী
  • প্রকাশের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০
বাঙালীর ইতিহাসে একটি ঐতিহ্যগত দিক হলো,আমরা বাঙালীরা মানুষের জীবদ্দশায়,তার ভালো কাজের প্রসংশা করি না।
পারলে সেই ব্যক্তিটিকে সুক্ষ কৌশলে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করি!
রক্তাক্ত করি তার কোমল হৃদয়কে।সমালোচনার বিষবাস্পে ভরিয়ে তুলি তার অবগাহনের আকাশ-বাতাস!
অথচ সেই ব্যক্তিটির মৃত্যুর পর শুরু হয়,কত প্রকার হা-হুতাশ!
তখন নিজেদেরকে প্রমান করার চেষ্টা করতে থাকি,তার সাথে আমাদের কত মধুর সম্পর্ক ছিলো।তার জন্য আমি কিংবা আমরা অমুক করেছি,তমুক করেছি!
এতে লাভটা কী?
জীবদ্দশায় ঝাঁটার বারি,আর মরার পর ফুলের মালা!
তাই হয়তো শিল্পী অনুপ ঘোষাল বড় আক্ষেপ নিয়ে গেয়েছিলেন,
” জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা,/মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল/মুখপানে যার কভু চাওনি ফিরে,/কেন তারি লাগি আঁখি অশ্রু সজল।/চিরদিন যারে তুমি দিয়েছো হেলা,/হৃদয় লয়ে শুধু খেলেছো খেলা/বিরহে তারি আজি বলো গো কেন,/শূন্য লাগে এই ধরণী বিপুল।।”
আমাদের এই আড্ডাবাজ বাঙালী মানসের আর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো,আপনি হয়তো কোন খেলায় ভালো খেলেছেন,কিংবা খারাপ খেলেছেন।
ভালো খেললে বলবে,”ওই শালা আজ ভালো  খেলাইচে রে…!”
অন্যদিকে খারাপ খেললেও বলবে,”ওই শালার জন্যে আইজ দলটা হারি গেলো…!”
অর্থাৎ ফলাফল যাই হোক।ভালো কিংবা মন্দ।আপনার ললাটে কিছু মানুষের গালাগালির প্রাপ্তি সুনিশ্চিত!
এই লেখাটির অনেক ভূমিকা হলো,এবার মুল বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।
আমার আজকের লেখার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় দশম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা(নীলফামারী-৩)।একাধারে তিনি একজন শিক্ষাবিদ ;একজন শিক্ষক;একজন রাজনীতিবিদ;তিনি একজন সুবক্তা;একজন সাংবাদিক;তিনি একজন মুক্তবুদ্ধির ও মুক্ত চেতনার মানুষ।
সর্বোপরি তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিক।
একটি গ্রামীণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে,অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে,আজ তিনি নিজেকে একটি অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন।জলঢাকার ইতিহাসে আজ তাই অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা মানে একটি মহীরুহের নাম।
তবে তার এই চলার পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না।সেই সুদীর্ঘ পথ ছিলো কণ্টকাকীর্ণ পথ!
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সারা দেশ যখন বিপন্ন!
যখন সারাদেশে বিশ দলীয় জোটের তান্ডবলীলা চলছিল;চলছিল অগ্নি সন্ত্রাস;নিরিহ মানুষ হত্যা;পুলিশ হত্যার মত অমানবিকতা!
যখন দেশের গনতন্ত্র ও সংবিধান চরম সংকটে!
তখন সেই ঐতিহাসিক ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে,তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেন।
পড়লেন মাননীয় সংসদ সদস্যের বিজয় মুকুট।
জলঢাকাবাসীর ভগ্যাকাশে,পঁচাত্তর পরবর্তীতে এই সংসদীয় আসনে সর্ব প্রথম সরকার ও সরকার দলীয় এমপির মধ্যে সরাসরি একটি সন্নিবেশ ঘটল।
আমরা জলঢাকার মানুষ একজন সরকার দলীয় এমপি পেলাম।
সেই থেকে শুরু হলো উন্নয়নের অগ্রযাত্রা।
মহান নেতা জাতীর জনকের সুযোগ্য কন্যা,মানবতার মা,জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই অগ্রযাত্রায়–অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাও একজন সৈনিক হলেন।
জলঢাকা উপজেলা তথা এই সংসদীয় আসনের  সকল ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ-কালভার্ট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোর উন্নয়ন আজ তার সেই কর্মের সাক্ষ্য দিচ্ছে।
এই জলঢাকার ঐতিহাসিক দু’দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণে তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করলেন।
এই যে জনপদ,যে জনপদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত মুখী স্রোতধারার একটি শক্তিশালী অবস্থান ছিল,সেই অচলায়ন,সেই অভেদ্য দুর্গ তিনি ভেঙ্গে-গুড়িয়ে  দিলেন।
কালের সাক্ষী হয়ে রইল,সেই বিপরীতমূখী স্রোতধারার বিপরীতে তিনি জলঢাকার প্রাণকেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম প্রতীক”বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ” প্রতিষ্ঠা করলেন।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও নান্দনিক একটি শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য ভূমিকা রাখলেন।
কোন ভাবেই কোন উন্নয়নকে লুকিয়ে রাখা যায় না।
সেই উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান।
তার আমলে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো আজ কালের সাক্ষী হয়ে আছে।
চিরকাল কেউ বেঁচে থাকেনি।
চিরকাল কেউ বেঁচে থাকে না।আমরও চিরকাল বেঁচে থাকব না।
তবে আমরা কত দিন বেঁচে থাকলাম,সেটি বড় কথা নয়।আমাদের মৃত্যু পর এই পৃথিবীতে কতদিন বেঁচে রইলাম,সেটাই হচ্ছে আসল কথা।সেটাই হচ্ছে বড় কথা।
ভালো-মন্দে;দোষে-গুণে হয় মানুষ।
মানুষের দোষ না থাকলে তো মানুষ ফেরেস্তা হয়ে যেতো!
তবে যাদের মধ্যে ভালোগুণের পরিমাণটা বেশি,আমরা তাকে ভালো মানুষ বলি।যাদের ভিতরে মন্দের পরিমান বেশি,আমরা তাদেরকে মন্দ মানুষ বলি।
আর পৃথিবীর সব মানুষকে একসাথে সুখী করা যায় না।সব মানুষের  দৃষ্টি কোণ থেকে ভালো হওয়া যায় না।একজন মানুষের পক্ষে সেটি সম্ভবও না।
তবে দিন যায় কথা থাকে।
অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা নিঃসন্দেহে একজন ভালো মানুষ।
সেই মানুষটির দেওয়ার ভান্ডার এখনও ফুরিয়ে যায়নি।এই জলঢাকাবাসী কে তার দেওয়ার এখনও অনেক কিছু রয়েছে।
তবে সেই সুযোগ টুকু,সেই সম্ভাবনা টুকু  এখন নির্ভর করছে,আগামী দিনে আপনাদের তথা এই জলঢাকার আপামর জনসাধারণের নীতি নির্ধারনের ওপর।তাদের সিদ্ধান্তের ওপর।
সময় থাকতে এবং দাঁত থাকতে আমাদেরকে দাঁতের মর্ম বুঝতে হবে।
না হলে পরে পস্তাতে হয়।
যখন পৃথিবী ব্যাপী মধ্যবিত্তদের জনপ্রতিনিধিত্ব করার পথ গুলো একে একে সংকোচিত হয়ে আসছে,তখন এই সময়ের, এই জনপদের একমাত্র আশার আলো,একমাত্র আশার দীপশিখাটির নাম গণমানুষের নেতা জনাব অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা।
তাই অসম্ভব মেধাবী ও বহু গুণে গুণান্বিত এই মানুষটিকে আমরা সময়ের আগে হারিয়ে ফেলতে চাই না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
কারিগরি সহযোগিতায়: আরএসকে হোস্ট
01779911004