শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশেও নতুন ধরনের করোনাভাইরাস, যুক্তরাজ্যে পাওয়া স্ট্রেইনের সঙ্গে মিল

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বা বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য দিলেন। দেশে করোনাভাইরাসের নতুন একটি স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে, যেটির সঙ্গে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের সাদৃশ্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানায় বিবিসি বাংলা।

সেখানে বলা হয়, বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীরা গত মাসে ১৭টি নতুন জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করে পাঁচটিতে নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাসের স্ট্রেইন শনাক্ত করেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম খান এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন যে একটি স্ট্রেইন পাওয়া গেছে, সেটি আগের স্ট্রেইনটির তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি গতিতে ছড়ায় বলে জানানো হয়েছে। এর পর থেকে বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেছে অনেক দেশ।

ড. সেলিম খান বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ যে সিকোয়েন্স করা হয়েছে, তাতে ভাইরাসটির দুটি স্পাইকে প্রোটিন মিউটেশন পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে শনাক্ত নতুন ভাইরাসটির স্ট্রেইনে যে বৈশিষ্ট্য আছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশে পাওয়া ভাইরাসটির পুরোপুরি মিল না থাকলেও অনেকটাই মিল রয়েছে।

বিসিএসআইআর-এর এই বিজ্ঞানী, বাংলাদেশের আগে এমন মিউটেশনের খবর রাশিয়া এবং পেরুতে পাওয়া যায়। ওই দেশগুলোতে একটি করে নমুনায় এমন মিউটেশন পাওয়া গিয়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশে মোট ১৭টি নমুনার মধ্যে ৫টিতেই এমন মিউটেশন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

সেলিম খান বলেন, আগারগাঁয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার থেকে ওই নমুনাগুলো জেনোম সিকোয়েন্সের জন্য নিয়েছিলেন তারা।

তবে কাদের কাছ থেকে এই নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা শনাক্ত করতে নমুনার তথ্য এরই মধ্যে ওই সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিসিএসআইআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)-কে এই ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাজ্য বলেছিল, তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। লন্ডনের নতুন যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ৬০ শতাংশই নতুন ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রবিবার এই ভাইরাসে এক হাজার ১০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এমনও বলা হচ্ছে, এই ভাইরাস প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা গিয়েছিল।

এই ভাইরাসকে আটকাতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ঘোষণা করেছেন, লন্ডন এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত লকডাউন থাকবে। গত শনিবার জনসন বলেছেন, “যত দিন যাচ্ছে, ততই এই ভাইরাস সম্পর্কে আমরা বেশি করে জানছি। ভাইরাস যদি চরিত্র বদল করে আক্রমণ করে, তবে আমাদেরও আত্মরক্ষার চরিত্র বদল করতে হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।