মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৫২ অপরাহ্ন

করোনার আরেকটি ধরন শনাক্ত যুক্তরাজ্যে, উৎস দক্ষিণ আফ্রিকা

অনলাইন ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

এ ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে
যুক্তরাজ্যে আরও একটি নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে যাতে দুজন আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানককের বরাত দিয়ে খবরটি জানিয়েছে বিবিসি।

লন্ডন এবং উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের আক্রান্ত ওই দুই ব্যক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করে এসেছে এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ভাইরাসটির নতুন বৈশিষ্ট্য দক্ষিণ আফ্রিকায় আবিষ্কৃত হয়। এ ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

গত ১৪ দিনে যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্রমণ করেছেন কিংবা তাদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের অতি সত্বর কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় এরই মধ্যে এই ভাইরাসটি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোয়াইলি ম্যাখিজে সতর্ক করে বলেন, “তরুণ, আগে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন এমন ব্যক্তিরাও ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।”

আরও বলেন, “এইডস মহামারির শুরুর দিকে যে অবস্থা পার করেছি, সেই একই অবস্থা আবার পার করতে পারবো না।”

দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসের এই বৈশিষ্ট্য বা ভ্যারিয়ান্টটি ‘দ্রুত ছড়ায়’ এবং দেশটির অনেক এলাকায় এর সংক্রমণও বেশি দেখা যাচ্ছে।

এই ভ্যারিয়ান্টটি নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে এটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবারই প্রথমবারের মতো এটি যুক্তরাজ্যে শনাক্ত করা হয়।

নতুন এই ভ্যারিয়ান্টটির সঙ্গে এর আগে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া নতুন বৈশিষ্ট্যের আরেকটি ভাইরাসের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। যদিও ভাইরাসটি দুটি আলাদাভাবে বিবর্তিত হয়েছে।

দুটি ভাইরাসেরই একটি নির্দিষ্ট অংশে এন ফাইভ জিরো ওয়ান ওয়াই নামে একটি পরিবর্তন হয়েছে। ওই অংশটি দিয়ে মানুষের দেহের কোষকে আক্রান্ত করে ভাইরাসগুলো।

ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক নিল ফার্গুসন বলেন, “আমার মনে হয় এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি যে ভাইরাসটি নিয়ে উদ্বেগ থাকা উচিত সেটি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাইরাসটি।”

“এই ভাইরাসটির বিস্ফোরকের মতো সংক্রমণের বিস্ময়কর রিপোর্ট রয়েছে এবং এর সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি হারও অত্যধিক।”

এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হ্যানকক বলেন, নতুন ভ্যারিয়ান্টটি ‘খুবই উদ্বেগজনক’ এবং যাদের কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের ‘অন্য যেকোনো ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত।’

একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন যে, ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ হিসেবে লাখ লাখ মানুষকে ক্রিসমাসের পরের দিন বা বক্সিং ডে থেকেই চতুর্থ পর্যায় বা সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিধি-নিষেধের আওতায় আনা হবে।

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগের ডা. সুসান হপকিন্স বলেন, “দুটি ভাইরাসই মনে হচ্ছে যে তারা অত্যন্ত সংক্রমণশীল।” কিন্তু তিনি বলেন, এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে আসা ভাইরাসটির ভ্যারিয়ান্ট সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন।

কোয়ারেন্টাইন এবং ভ্রমণে বিধি-নিষেধ আরোপের মাধ্যমে নতুন ভ্যারিয়ান্টটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
কারিগরি সহযোগিতায়: আরএসকে হোস্ট
01779911004