বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
পাইকগাছায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পল্লীসমাজের লাল কার্ড প্রদর্শন ডোমারের বোড়াগাড়ী হাটে সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্বোধন ভূমিহীন মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী’র বাড়ির জন্য আকুতি গঙ্গাচড়ায় মটর শ্রমিক নেতা এম এ মজিদ এর গণসংযোগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন শেখ হাসিনা’ ফুলবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা : বাড়িতে আগুন কেউ কি শুনবেন বেরোবির কান্না? ভূরুঙ্গামারীতে দিনে ২০ মিনিটও মিলছে না বিদ্যুৎ : চরম ভোগান্তিতে বোরো চাষীরা দৈনিক জলকথার কার্যালয় পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাছের দাম কম না রাখায় ব্যবসায়ীকে পেটানোর অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

মাছের দাম কম না রাখায় ব্যবসায়ীকে পেটানোর অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

বড় ভাইয়ের কাছে মাছের দাম কম না নেওয়ায় উপজেলা শহরের এক মাছ ব্যবসায়ীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে রাজীবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজীবপুর উপজেলা শহরের নামা বাজার মাছ হাটে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ীর নাম মোহাম্মদ আলী। তার দাবি, মারপিট করার সময় তার ক্যাশ বাক্সে থাকা মাছ বিক্রির টাকাও নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

তবে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান তারেক দাবি করেছেন, তিনি মারতে উদ্যত হলেও ওই মাছ ব্যবসায়ীকে মারপিট করেননি। ঘটনাটিকে ‘সামান্য’ আখ্যায়িত করে বিষয়টি তারা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেবেন বলে আশ্বাস দেন।

ভুক্তভোগীসহ ওই বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের বড় ভাই আরিফ মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ আলীর কাছ দুটি পাঙ্গাশ মাছ কেনার জন্য দরদাম করেন। পরে ১১০ টাকা কেজিতে দুইটি পাঙ্গাস তিন কেজি ১০০ গ্রাম ওজন হলে তিনি বিক্রাতাকে ১০০ গ্রাম ওজন বাদ দিয়ে দাম হিসাব করতে বলেন। এসময় বিক্রেতা ১০০ গ্রাম ওজন বাদ দিয়ে তিন কেজি মাছের দাম ৩৩০ টাকা দাম বলেন। আরিফ ৩২০ টাকা দিতে চান। বিক্রেতা তখন বলেন ১০ টাকা কম দিলে আমার লোকসান হবে। আপনি যে দাম ঠিক করছেন সেটাই দেন, না হলে লস হবে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফ দোকানির ওপর মাছ ছুড়ে ফেলে দিয়ে টাকা ফেরত দিতে বলেন।

মাছ ফেলে দেওয়ায় বিক্রেতা আলী হোসেন এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এভাবে মাছ ফেলে দিলেন কেন? এতে আরিফ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আরও গালমন্দ করে ওই স্থান থেকে সরে গিয়ে মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাই ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেককে ডেকে আনেন।

মাছ ব্যবসায়ীরা আরও জানান, কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে আরিফের ছোট ভাই ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক নিজের অনুসারীদের নিয়ে এসে ওই মাছ বিক্রেতার ওপর চড়াও হন এবং উপুর্যপুরি কিল ঘুষি মারতে থাকেন। ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত মাছ ব্যবসায়ীরা হতভম্ব হয়ে পড়লেও পরে তারা এগিয়ে গিয়ে আক্রান্ত মাছ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেন।

হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করারও সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিন কেজি মাছে ১০০ গ্রাম ওজন ছাড় দিয়েছি। আরও যদি ১০ টাকা কম নেই তাহলে আমার কেনা দামও থাকে না। আমাকে মারপিট করলো তো করলো, আবার ক্যাশ বাক্সে থাকা মাছ বিক্রির প্রায় ৯ হাজার টাকাও এখন পাচ্ছি না।’

রাজীবপুর উপজেলা মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দাম কম না নেওয়ার কারণে এভাবে একজন ব্যবসায়ীকে মারপিট করে তার ক্যাশ বাক্সের টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি জানান, বণিক সমিতি এই বিষয়ে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে তারা বাজারে মাছ বিক্রি বন্ধ রাখবেন।

রাজীবপুর উপজেলা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

মাছ ব্যবসায়ীকে মারপিট করার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক বলেন, ‘ওই মাছ ব্যবসায়ী আমার ভাইয়ের ব্যাগ থেকে মাছ বের করে নিয়েছে। ক্রেতার সঙ্গে সে এমন আচরণ করতে পারে না। বিষয়টি জানার পর আমি সেখানে গিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হলেও তার গায়ে হাত দেইনি। তবে অনাকাক্সিক্ষত বিষয়টি আমরা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করা নেবো।’

রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মাছ ব্যবসায়ীরা তার কাছে অভিযোগ নিয়ে যান। তিনি দুই পক্ষের কাছে ঘটনাটি শুনেছেন। তাদের নিয়ে বসে মীমাংসা করে দেবেন। তবে এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজীবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবিউল হাসান জানান, ‘মাছ বিক্রেতাকে মারপিট করার বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।