বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
পাইকগাছায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পল্লীসমাজের লাল কার্ড প্রদর্শন ডোমারের বোড়াগাড়ী হাটে সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্বোধন ভূমিহীন মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী’র বাড়ির জন্য আকুতি গঙ্গাচড়ায় মটর শ্রমিক নেতা এম এ মজিদ এর গণসংযোগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন শেখ হাসিনা’ ফুলবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা : বাড়িতে আগুন কেউ কি শুনবেন বেরোবির কান্না? ভূরুঙ্গামারীতে দিনে ২০ মিনিটও মিলছে না বিদ্যুৎ : চরম ভোগান্তিতে বোরো চাষীরা দৈনিক জলকথার কার্যালয় পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাছের দাম কম না রাখায় ব্যবসায়ীকে পেটানোর অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

ভূমিহীন মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী’র বাড়ির জন্য আকুতি

Lalmonirhat

 

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাট জেলা সদরের শাখা ছোট নদী রত্মাই। এই নদীর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের রাস্তার সরকারী জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিহীন মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রাধা রাণী (৫৫) সন্তানেসহ সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন ও মুজিব জন্মশত বর্ষ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য একটি বসবাস যোগ্য বাড়ি সহায়তা চেয়েছেন। জীবনের শেষ কয়টা দিন নিজের বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করতে চান।

জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাড়িবনমালি গ্রামের বীব মুক্তিযোদ্ধা বিমল চন্দ্র বর্মন-এঁর পরিবার বাঁধের রাস্তায় বসবাস করছে। এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের কোন জায়গা জমি নেই। যা ছিল ধরলা ও রতœাই নদী গর্ভে বিলীণ হয়েগেছে। তিনি বর্তমানে অবহেলায় জীবন অতিবাহিত করছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল চন্দ্র বর্মন-এঁর স্ত্রী রাধা রাণী জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে শষ্যাসায়ি ছিলেন। এক বছর আগে দেহত্যাগ করেছেন। ওনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাহ করা হয় ছিল। মৃত স্বামীর খুব দুঃখ ছিল। যে দেশের জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি। সেই দেশে একটুরো মাটি তাঁর নামে নেই। তিনি স্ত্রী , সন্তানদেও কোন আশ্রয় দিয়ে যেতে পারেনি। মৃত স্বামীর আত্মার শান্তি পেতে পধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে একটি আশ্রয় চাই। তার কোন জমি না থাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহনির্মাণ সহায়তা পাননি। তাই সরকারি জায়গায় বাঁধের রাস্তার ধারে টিনের ছোট ছোট ঘর তুলে দুই ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি- নাতনীসহ সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি। জীবনের পড়ন্ত বিকেলে একটি আশ্রয় পেলে সকলকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করে নিশ্চিন্তে দেহত্যাগ শান্তিতে ত্যাগ করতে পারতাম। ছেলে মেয়েরা একটি সামাজিক মর্যাদা পেত। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি সন্তানরা তেমন ভাবে লেখা পড়া করতে পারেনি। অভাব অনটন তাদের শিক্ষা অর্জনে বড় বাধা হয়ে ছিল। পরিবারটি মুক্তিযোদ্ধার সরকারি ভাতা ছাড়া কোন ধরণের সরকারি সহায়তা পায়নি। সন্তানরা দিনমজুরী করে সংসার চালায়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডর বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন জানান, এমন ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের কথা তার জানা নেই। তবে তার পরিবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদে যোগাযোগ করতে পারেন। সরকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহনির্মাণের তালিকা করেছে। সেই তালিকা গুলি যাচাইবাচাই করা হচ্ছে।

লারমনিরহাট সদও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার জানান, ৩৭টি ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাকে বাস গৃহ উপহার দিতে তালিকা করা হয়েছে। এই পরিবারের সেই তালিকায় নাম আছে কিনা এই মুহুর্তে বলতে পারছিনা।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।